শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার


ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি)।

১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ 

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরের এ ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি)। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এর কেন্দ্র ছিল নাগেওকেও এলাকার মবায়ে শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

শক্তিশালী ও অগভীর এই ভূমিকম্পের পর পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসিসহ কয়েকটি এলাকায় সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়। প্রায় দুই হাজার মানুষ নাগেওকেও এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরে ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি হাসপাতালে রোগীদের ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পের পর ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি পরাঘাতসহ একাধিক কম্পন অনুভূত হয়েছে।

প্রাদেশিক গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবন ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি প্রাথমিকভাবে একজন নিহত ও চারজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের সুনামির পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় বিএমকেজি প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে। সংস্থাটি সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উপকূলীয় এলাকার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ফ্লোরেস অঞ্চলও অতীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামির শিকার হয়েছে। ১৯৯২ সালে একই অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি ও বিএমকেজি।