কিংবদন্তি • অমলিন আইয়ুব বাচ্চু, রুপালি গিটারের সুর আজও হৃদয়ে
৯ জুলাই ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক ও রক্তক্ষয়ী যৌথ বিমান হামলায় প্রাণ হারান ইরানের দীর্ঘকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দীর্ঘ পথ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাশহাদের সবচেয়ে পবিত্র উপাসনালয় ‘ইমাম রেজার মাজারে’ তাঁকে সমাহিত করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। শেষ বিদায়ের এই ক্ষণে খামেনির সঙ্গে একই কবরে সমাহিত করা হচ্ছে তাঁর শিশু নাতনি, জামাতা, কন্যা এবং পুত্রবধূ জহরা হাদ্দাদ আদেলকে।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানী তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় শহর কোম-এ প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এরপর শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম আবেগের জায়গা প্রতিবেশী দেশ ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা ও নাজাফ শহরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাখো শিয়া মুসলিমের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। ইরাকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইতিমধ্যে তাঁর মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে জানাজার জন্য ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্মস্থান এই মাশহাদ শহর। এটি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল শহর, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। শিয়া মুসলিমদের শীর্ষ ১২ নেতার অন্যতম ইমাম রেজার কবর এই শহরে অবস্থিত হওয়ায় এটি শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। নবম শতকে বিষক্রিয়ায় নিহত ইমাম রেজাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অন্যতম উত্তরসূরি মনে করা হয়। মূলত খামেনিকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিতেই তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী এই মাজার কমপ্লেক্সে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও এই ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে সমাহিত করা হয়েছিল। রাইসির জন্মও ছিল এই মাশহাদে এবং এক সময় তাঁকে খামেনির পরবর্তী উত্তরসূরি মনে করা হতো। এছাড়া খামেনির ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির জন্মও এই পবিত্র শহরে। রাইসি ছাড়াও ইরানের বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের শেষ আশ্রয়স্থল এই মাজার কমপ্লেক্স।
ছয় মাস আগের সরকারবিরোধী অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই জানাজা তেহরানের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশাল এই জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান বিশ্বমঞ্চে তাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বজায় রেখে ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো কারণে যুদ্ধবিরতি ভাঙলে অঞ্চলের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।