রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ১২, প্রাণ গেছে দুই বাংলাদেশির


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ 

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ১২, প্রাণ গেছে দুই বাংলাদেশির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর হামলার জবাব দিতেই তারা এ অভিযান চালিয়েছে। তবে হামলার ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির পৃথক প্রতিবেদনে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) বরাত দিয়ে হতাহতের এ তথ্য জানানো হয়।

জিএসিএর বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় অবকাঠামো ও সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। চলতি সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এ হামলার জবাব দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-মালিকি আরও জানান, সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে ওই ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি সৌদি আরবে হুতিদের হামলার, বিশেষ করে বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর সমালোচনা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় অন্তত তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন পাইলট ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আকাশসীমা নিয়ে হুতিদের হুঁশিয়ারি

এর আগে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল হুতিরা। গোষ্ঠীটির হুঁশিয়ারি, পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর দিয়ে চলাচল ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় পরিচালিত যেকোনো বিমানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

সর্বশেষ হামলার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের দূতাবাস রিয়াদের বিমানবন্দরে গুরুতর একটি ঘটনা ঘটেছে বলে নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। কানাডার দূতাবাস নাগরিকদের বিমানবন্দরে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং সেখানে চলমান সামরিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করেছে।

হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হুতিদের এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। জর্ডান ও ওমানও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাপানের দূতাবাস।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ।

হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্ত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানে যোগ দিতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, হামলার খবর তাঁরা তখনই পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।