বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত : ডব্লিউএইচও


বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে এই রোগ আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বর্তমানে কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ 

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত : ডব্লিউএইচও
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তবে এই রোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম রয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী গত জানুয়ারি মাসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পরদিন পরীক্ষাগারে তার শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এ সংক্রমণের বিষয়টি অবহিত করে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর ২১ জানুয়ারি জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়। তার কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে শনাক্ত ও পরীক্ষা করেছে। তবে তাদের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে নিপা ভাইরাসের দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশে এ মৃত্যুর ঘটনা সামনে এলো। এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে রোগটি নিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক- সব পর্যায়েই কম রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপা ভাইরাসকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি, পরীক্ষা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা