শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

শীতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা, চিকিৎসকদের পরামর্শে সচেতনতা


শীতকাল এলেই ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে জটিলতা বাড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়া, ব্যায়াম কমে যাওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এই মৌসুমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা।

১২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১০ অপরাহ্ণ 

শীতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা, চিকিৎসকদের পরামর্শে সচেতনতা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

শীতকাল এলেই ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে জটিলতা বাড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়া, ব্যায়াম কমে যাওয়া এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তাই এই মৌসুমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে। অনেক সময় ব্যায়াম না করা, বেশি পরিমাণে পিঠা-মিষ্টি খাওয়া ও ঘুমের অনিয়মও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) উপদেষ্টা ডা. মাহবুবুল হাসান বলেন,

“শীতে অনেক ডায়াবেটিস রোগী নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যনিয়ন্ত্রণে অবহেলা করেন। অথচ এ সময়ই গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে জরুরি।”

তিনি আরও বলেন,

“প্রতিদিনের রুটিনে হালকা হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান ও ওষুধের সময় ঠিক রাখা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।”

চিকিৎসকদের পরামর্শ:

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।

মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন।

শরীর গরম রাখতে গরম পোশাক পরুন, তবে ঘাম জমে যেন না থাকে।

নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।

পা ফাটা বা ক্ষত হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নিন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।

বিশেষ সতর্কতা:

যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য শীত আরও ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শীতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র হলো নিয়মিত রুটিন মেনে চলা, ব্যায়াম বজায় রাখা ও খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা। ছোটখাটো অসাবধানতা বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে—তাই সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।