বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিলেন আদালত


প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।

১০ জুন ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ 

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিলেন আদালত
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পর হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদের করা আবেদন মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।

বুধবার (তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিতকরণের দিন) সিআইডি পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। আইনি কিছু প্রক্রিয়া শেষ করেই আমরা সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণ থেকে লাশ উত্তোলন করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব।"

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তখন সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং কর্মচারী আবুল জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। এরপর তারা গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন আসে যে সালমানের কিছু একটা হয়েছে। দ্রুত তারা ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে সালমান শাহকে শয়নকক্ষে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসা ছিলেন। সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পেয়ে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘদিন অপমৃত্যু মামলা হিসেবে থাকার পর, গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই হত্যা মামলায় ১১ জন নামীয় এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন: ১. সামীরা হক (সালমান শাহর স্ত্রী) ২. আজিজ মোহাম্মদ ভাই (শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক) ৩. লতিফা হক লুছি ৪. ডন (চলচ্চিত্রের খলনায়ক) 5. ডেবিট ৬. জাভেদ ৭. ফারুক ৮. রুবি (মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টার) ৯. আব্দুস সাত্তার ১০. সাজু ১১. রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর জানান, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে সিআইডি তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকে তিনি (আলমগীর) তার বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।