মৈত্রী পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ওপর থেকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পুনঃভর্তি ফি আদায় করতে পারবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- যেমন স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর—‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত মাসিক বেতন বা টিউশন ফি গ্রহণ করতে পারবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষাক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যত্রতত্র ফি আদায়ের অনিয়ম বন্ধ করা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আয়-ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে। তহবিলের প্রতিটি আয় ও ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধান- উভয়কে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব প্রকার আয় নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব, সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাতে হাতে বা নগদে ফি আদায় কার্যত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিশেষ জরুরি প্রয়োজন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিয়ে সাময়িকভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করা যাবে। সেই অর্থ সর্বোচ্চ দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের খাতে কোনো প্রকার সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করতে হলে আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত খাতে সংগৃহীত অর্থ যথাসময়ে ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ হ্রাস পাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।