শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

চামড়ার বাজারে ধস, সরকার নির্ধারিত দাম কেউ মানছে না


বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে। ট্যানারি মালিক ও বড় আড়তদারদের কারসাজিতে সরকার নির্ধারিত মূল্য সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চামড়া সংগ্রহ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় পড়েছে দেশের বিভিন্ন মাদরাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানাগুলো, যাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই চামড়া বিক্রির অর্থ থেকে।
চামড়ার বাজারে ধস, সরকার নির্ধারিত দাম কেউ মানছে না
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কোরবানির কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। বাস্তবে বাজারে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ট্যানারি মালিক এবং বড় আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা তারও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন প্রান্তিক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

চলতি বছর সরকার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চামড়া সংরক্ষণ করার জন্য লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন বাবদ প্রতি পিসে যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বাড়তি খরচ হয়, সেখানে কাঁচা চামড়ার বাজারমূল্য নেমে এসেছে তলানিতে।

রাজধানীর বৃহত্তম চামড়ার বাজার লালবাগের পোস্তা এবং মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের চামড়া ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় এবং বড় আকারের চামড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী একটি মাঝারি চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ছিল ১,৩০০ থেকে ১,৮৫০ টাকা এবং বড় চামড়ার সম্ভাব্য মূল্য হওয়ার কথা ছিল ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকারও বেশি।

একইভাবে ছাগলের চামড়ার বাজারে নেমেছে নজিরবিহীন ধস। বাজারে প্রতি পিস ছাগলের চামড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো দাম না দিয়েও চামড়া তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কারণ এটি এখন ব্যবসায়ীদের কাছে এক প্রকার 'বোঝা' হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চামড়ার বাজারের এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশের মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো। অনেক কোরবানিদাতা তাদের পশুর চামড়া এসব ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন, যা বিক্রি করে এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং ভরণপোষণের খরচ চালানো হয়। টানা কয়েক বছর ধরে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এবার মাদরাসাগুলোর চামড়া সংগ্রহের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে।