বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১১ পেশায় যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ করল মাউশি


বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদের পূর্ণকালীন ইমামতি, দোকান পরিচালনাসহ মোট ১১টি পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না- এমন নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ 

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১১ পেশায় যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ করল মাউশি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মাউশির নির্দেশনার আলোকে গত রবিবার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলার সব স্কুল ও কলেজে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা কোন কোন পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশের সত্যতা নিশ্চিত করে কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, মাউশি নির্ধারিত ১১টি পেশার বিষয়ে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সে অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটি পূর্ণকালীন ও রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত। তাই শিক্ষকতার পাশাপাশি কোনো অতিরিক্ত লাভজনক পেশায় যুক্ত হওয়া নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ। এতে শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হয়।

নিষিদ্ধ পেশার তালিকায় রয়েছে- 
১) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাংবাদিকতা,
২) আইন পেশা,
৩) কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা সেখানে শিক্ষকতা,
৪) প্রাইভেট বা কেজি স্কুল পরিচালনা,
৫) শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা বা পাবলিকেশন্সের ব্যবসা,
৬) হজ এজেন্ট বা হজ কার্যক্রমের বিপণন,
৭) বিয়ের কাজী বা ঘটকালী পেশা,
৮) টং দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা,
৯) ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা,
১০) শিক্ষকতার সময়কে প্রভাবিত করে এমন মসজিদের পূর্ণকালীন ইমাম বা খতিবের দায়িত্ব পালন এবং
১১) কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োজিত থাকা।

তবে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন- শর্ত হলো, তা সীমিত পরিসরে হতে হবে এবং কোনোভাবেই যেন মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে।