মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

কর্মবিরতি প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের- অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যথায় চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ 

কর্মবিরতি প্রত্যাহারের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের- অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দ্রুত কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা এবং ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন ১ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি এবং ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছে—এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকেই শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা এবং বেতন-কমিশনের সভাপতির সঙ্গে এসব বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া গত ৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে জাতীয় বেতন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই বেতন সংশোধনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে এসব উদ্যোগ নেওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে, কিছু শিক্ষক সংগঠন বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষায় বাধা তৈরি করেছেন। কোথাও কোথাও পরীক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটেছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মসূচি সরকারি চাকরি আইন ও আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী এবং ফৌজদারি আইনের আওতায়ও শাস্তিযোগ্য।

সবশেষে মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে কাজে যোগ দিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা গ্রহণসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে; অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।