রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি আপাতত বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।’ প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছর ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেওয়া যাবে।’ নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর বদলি কার্যক্রম আবার চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তখন বর্তমান নীতিমালায় বদলি হবে কি না, নাকি নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে। তখন বর্তমান সিস্টেমটা, যে নীতিমালায় বদলিটা চলছিল সেটাতে হবে না অন্য কিছুতে হবে, সেটা তখনই বলা যাবে। যেহেতু তখন চেঞ্জ হতে পারে, তাহলে সেটা নিয়ে এখন আবার আলোচনার প্রয়োজন।’ এদিকে উপবৃত্তিসহ প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমেও সরকার নজর দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপবৃত্তির ক্ষেত্রে আর্থিক প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে তা আরও কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে উপবৃত্তির আওতা ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।