সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিগত ১৫ বছরে ৬২ মামলার আসামী, মিথ্যা অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার


বিগত ১৫ বছরে ৬২ মামলার আসামী, মিথ্যা অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গত জুলাই-আগষ্টের গনঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা। আর বিগত ১৫ বছরে এ ফ্যাসিষ্টদের দ্বারা বিএনপির প্রতিটি নেতার বিরুদ্ধে হয়েছে মিথ্যা বানোয়াট ও গায়েবি মামলা। দলের পক্ষে সংগ্রাম করতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে আমিও একাধারে ৬২ মামলার আসামী হয়েছি সেই সঙ্গে নির্যাতন আর জুলুম তো ছিলই। আর বর্তমানে আরেকটি ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা অভিযোগে দল থেকেও হয়েছি বহিষ্কার, ঠিক এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের পক্ষে কাজ ও তৃনমুলের ভাবনা নামক একটি নির্বাচনী আলাপের সময় তিনি এমন আক্ষেপ করেন।

বিগত ফ্যাসিষ্ট আমলের এমন অমানবিক নির্যাতন জেল-জুলুম থেকে রেহায় পাননি  মেহেদী হাসানসহ তার পরিবারের অপর সদস্যরাও। অথচ চক্রান্তমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয় দলের কাছে। তারই ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

তবে এসময় তার দলে ফেরা অতি জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন ঈশ্বরদী পৌর ও উপজেলা  বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পতিত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে ঈশ্বরদীতে হত্যা চেষ্টার মামলার রায়ে গত ৩০ জুন/২০১৯ সালে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের ৪৭জন নেতাকর্মী ফাঁসিসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হন। এরপর থেকে রাজনৈতিকভাবে নেতৃত্ব শুন্য হয়ে পড়ে ঈশ্বরদী। আওয়ামীলীগ কর্তৃক হামলা মামলার শিকার হওয়ার ভয়ে স্থানীয় বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতাই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। এমতাবস্থায় ঈশ্বরদীতে নেতৃত্বশুন্য হয়ে পড়ে বিএনপি।

তখন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নির্দেশনায় তার ছোট ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সরকার পতনের আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়। একারণে মেহেদী হাসানসহ তার অপর দুই ভাইয়ের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, সরকারী সম্পদ আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা, আন্তঃজার্তিক মৈত্রী ট্রেনে হামলা, শহরে বোমা বিষ্ফোরণ, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুরসহ নানা অভিযোগে ৬২ টি মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন  থানা পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি পুলিশ স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসানসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের গ্রেফতার চেষ্টা চালায়।

সুত্রগুলোর দাবী শেখ হাসিনার শাসনামলে মেহেদী হাসানসহ তার সঙ্গে থাকা প্রায় কয়েকশত কর্মী দীর্ঘ ৮-১০ বছর ধরে বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। পালিয়ে বেড়িয়েছে। অথচ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে গভীর ষড়যন্ত্র করে একটি পক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রিয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে মেহেদী হাসানকে বহিষ্কার করিয়েছে।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমান বলেন- বর্তমানে তরুনদের রাজনীতিতে প্রবেশ ও দলের পক্ষে কাজ করার বড় সমর্থন মেহেদী হাসানের পক্ষে রয়েছে। আর দলের চরম দূর্দিনে মেহেদী হাসানের মত নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে সংগ্রাম করেছে। অসংখ্য হামলা মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করেছে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়েছে। অথচ বিনা কারণে মেহেদীর মত ত্যাগী নেতার এভাবে বহিষ্কার খুবই কষ্টের। দলের হাই কমান্ডের নিকট আবেদন দ্রুতই মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আগের মত দলের জন্য আবারও কাজ করার সুযোগ দিবে বলে বিশ্বাস করি।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি চক্রান্তকারী পক্ষ কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে আমাকে বহিষ্কার করিয়েছে সেই ঘটনার আসল ফুটেজ ও সংবাদ ইতিমধ্যে প্রথম সারির অনেক মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে। সেখানে প্রমান হয়েছে আমি নির্দোষ। আর আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। আমার রক্তে বিএনপির রাজনীতি মিশে গেছে। তাই রাজনীতি ছাড়া থাকতে পারি না। দলীয় পদ নেই। তারপরও দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা রাখতে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি আর করে যাবো।