জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশন ভবনে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে তারা উপস্থিত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০টি আসনে পুনঃগণনার আবেদন এবং নির্বাচনী অনিয়মের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই তারা ইসিতে যান।
এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন আসনে ভোট জালিয়াতি, ভোটারদের ভোটদানে বাধা, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার মতো অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জুবায়ের আরও বলেন, কিছু আসনে ফলাফল প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, আবার কিছু আসনে ‘বিদ্যুৎগতিতে’ ফল ঘোষণা করা হয়েছে—যা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যেসব আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়া দলের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-1 আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলি উল্লাহ নোমান।
অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, “৩০টি আসনে পুনঃগণনা হলে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পাবে। যাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে বিজয়ী হবেন।”
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, তার আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল শিটে এজেন্টদের নামের গরমিল, এনআইডি নম্বর অনুপস্থিত, ওভাররাইটিং, কার্বন কপি ব্যবহার, পেন্সিলে লেখা, পোলিং এজেন্টের নাম না থাকা, ফটোকপির ফলাফল শিট ব্যবহার এবং প্রিন্টের পরিবর্তে কলম দিয়ে কেন্দ্রের নাম লেখার মতো অসংগতি পাওয়া গেছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য যেসব আসনে পুনঃগণনার আবেদন করতে যাচ্ছে, সেগুলো হলো- ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।