বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে পরিপত্র সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, “ভোটার, প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে, যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়, সেখানে কোনো ছবি তোলা যাবে না।”
ইসি সচিব জানান, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি পরিষ্কার করতেই পরিপত্র সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে মোবাইল রাখা যাবে না। এসব বিষয় ফিল্টার করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভোটার ও সংবাদকর্মীদের মূল প্রশ্ন ছিল তারা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার- মোবাইল নেওয়া যাবে, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা যাবে না।
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকবে। বড় আকারের মিছিল, সভা ও শোডাউন নিষিদ্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা বন্ধ রাখতে মনিটরিং করা হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি আলাদা সেল কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো পরিস্থিতির খবর নেই। তবে তফসিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিন্দনীয়। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা এখনো পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্ব হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, “ফল প্রকাশ বিলম্ব হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যত ব্যালট কাস্ট হবে, সব ব্যালট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে। কোথাও ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে সেটিকে বিলম্ব বলা উচিত নয়।”
এ সময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি- ২২৩ জন, যা বাড়তে পারে ২৫০ জনে। এ ছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইল), আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
শেষে তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনের।”