চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:১২ অপরাহ্ণ
অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও লিমিটেড কর্তৃক বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, সংগঠনের গঠনমূলক কার্যক্রম ও চালকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর পাঠাও লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির লিগ্যাল অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ (আইন) রাকিবুজ্জামান বাদী হয়ে মিরপুর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নথিভুক্ত হয় মামলা নম্বর ০৯ হিসেবে। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও অ্যাপ–বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সভাপতি বেলাল আহমেদ এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব ও অ্যাপ–বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহসিনকে ১০ ও ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে ২০২৪ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর পাঠাওয়ের বনানী ও মিরপুর অফিসে হামলা, ভাঙচুর, কর্মীদের ওপর আক্রমণ, নারী কর্মীদের হয়রানি এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর মিরপুর অফিসে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদের প্রেস সচিব আবদুল্লাহ আল মারুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “আমাদের পরিষদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, এজাহারে উল্লেখিত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সংগঠনের আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ ও সদস্য সচিব শেখ মহসিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণে ঢাকার হলিডে ইন হোটেলে আয়োজিত ‘রিয়ালাইজিং ডিসেন্ট ওয়ার্ক ইন দ্য প্ল্যাটফর্ম ইকোনমি’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিআরটিএ চেয়ারম্যান কর্তৃক আহ্বানকৃত রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭ (সংশোধিত ২০২৫) পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভার নোটিশ সংগ্রহের জন্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সারা দিন বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন বলেও জানান তিনি।
সংগঠনের দাবি, এজাহারে উল্লেখিত পৃথক দুটি ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো নেতৃবৃন্দের ন্যূনতম সম্পৃক্ততাও নেই। বরং অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর ভাড়া কমানোর প্রতিযোগিতা ও চালকদের ওপর চাপ সৃষ্টিকারী নীতির কারণে শ্রমজীবী চালকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপদ কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “চালকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় আইন মেনে গঠনমূলক কর্মসূচি ও বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ অনুসরণ করে আসছি। আমাদের কার্যক্রমের অগ্রগতিতে ভীত হয়েই পাঠাও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা দায়ের করেছে।”
তিনি অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঠাও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে- এমনটাই তারা প্রত্যাশা করেন।