মায়ের প্রতি চরম অবহেলা: সেই যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
৫ জুন ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
ভাইরাসের মিউটেশন বা রূপবদলের গতির চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে থাকার অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তারা এমন একটি সর্বজনীন টিকা তৈরি করেছেন, যা শুধু বর্তমান করোনা নয়, বরং ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া নতুন সব মহামারির বিরুদ্ধেও আগেভাগেই সুরক্ষা দিতে পারবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে সম্পূর্ণ এআই-এর নকশায় তৈরি কোনো টিকার মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ঘটনা এটাই প্রথম।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ডায়োসিনভ্যাক্স’-এর গবেষকদের তৈরি এই টিকাটি ভাইরাসের নিত্যনতুন মিউটেশনের কারণে বারবার টিকা হালনাগাদ করার চিরচেনা ঝামেলার অবসান ঘটাতে পারে। প্রাথমিক ধাপের মানব পরীক্ষায় টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
টিকাটি মূলত কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাইরাসের স্ট্রেইনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। গবেষকরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শত শত করোনাভাইরাসের জিনগত কোড সংগ্রহ করে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করিয়েছেন। এআই সেই ডেটা থেকে ভাইরাসের এমন কিছু অংশ বা বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করেছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের মধ্যে কমন বা অভিন্ন থাকে এবং ভাইরাস সহজে তা পরিবর্তন করতে পারে না। এই অভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে এআই ল্যাবে একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’তৈরি করেছে।
এই সুপার-অ্যান্টিজেনটি মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে ভাইরাস নিজের রূপ পরিবর্তন করলেও শরীর তাকে চিনে ধ্বংস করতে পারে। এমনকি বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী থেকে নতুন কোনো করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়লেও এই টিকা সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান জনাথন হিনি বলেন,"সাধারণত কোনো এলাকায় মহামারি বা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা টিকা তৈরির পেছনে ছুটি। এটা অনেকটা নিজের লেজ তাড়া করা কুকুরের মতো অবস্থা। কিন্তু আমরা এখন সেই সনাতন পদ্ধতি বদলে দিতে চাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ভাইরাসের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকা, যাতে মহামারি শুরু হওয়ার আগেই আমরা সুরক্ষার দেয়াল তুলে দিতে পারি।"
গবেষক দলটি জানিয়েছে, করোনা টিকার এই অভাবনীয় সফলতার পর তারা এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu) এবং ইবোলার মতো মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধেও আলাদা সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তি বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলার পুরো সমীকরণটাই বদলে দেবে।