মায়ের প্রতি চরম অবহেলা: সেই যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
৪ জুন ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
গত ১৪ থেকে ১৬ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সাউথফিল্ডে অবস্থিত লরেন্স টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় ২৭তম রোবোফেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের তৈরি ও প্রোগ্রাম করা স্বয়ংক্রিয় রোবটের দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় বিভাগ ছিল ‘বটলসুমো’। এই বিভাগের মূল চ্যালেঞ্জ হলো- একটি স্বয়ংক্রিয় রোবটকে সম্পূর্ণ নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় প্রতিপক্ষের রোবট অথবা একটি নির্দিষ্ট বোতলকে নির্ধারিত টেবিলের বাইরে ঠেলে ফেলে দিতে হয়। এই সিনিয়র ক্যাটাগরিতেই বাংলাদেশ দল তাদের অসাধারণ রণকৌশল ও মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্বের দরবারে তৃতীয় স্থান ছিনিয়ে নেয়।
বাংলাদেশ দলের সাত সদস্যের মধ্যে ছয়জনই ছিলেন আন্তর্জাতিক হোপ স্কুল বাংলাদেশ-এর শিক্ষার্থী এবং একজন ছিলেন সিলেটের জাতীয় শিক্ষাক্রমভিত্তিক একটি কলেজের শিক্ষার্থী। পুরো দলটিকে নিবিড় প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান করেছে দেশের জনপ্রিয় স্টিম ও রোবটিক্স শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম রোবোনটস ক্লাব।
বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন:
মো. মানসিব আহসান (৭ম শ্রেণি)
শায়ান সাদিদ জামান (৭ম শ্রেণি)
ট্যাং তিয়ানসিং (৭ম শ্রেণি)
নাসিফ আশাব খান জামি (৮ম শ্রেণি)
ফারহান মোস্তফা (৯ম শ্রেণি)
আবরার হাসান (৯ম শ্রেণি)
আবদুর রহমান লাহি (১২শ শ্রেণি)
কোচ ও মেন্টর: মো. মুনজুর মোরশেদ (প্রধান নির্বাহী পরিচালক, রোবোনটস ক্লাব)
এই অর্জন কেবল ট্রফির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী বৈশ্বিক মানের স্টিম (STEAM) শিক্ষার নানা দিক, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দলগত সমন্বয়ের এক দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য আবদুর রহমান লাহি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন:"রোবোফেস্টে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। আমরা শিখেছি, রোবটিক্স শুধু একটি রোবট তৈরির বিষয় নয়; এর সঙ্গে কৌশল, দলগত কাজ, ধৈর্য এবং চাপের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও জড়িত।"
বাংলাদেশ দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রোবোফেস্টের সহকারী পরিচালক শ্যানন পালোনিস বলেন:"সিনিয়র বটলসুমো বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার প্রমাণ। তারা আন্তর্জাতিক স্টিম ও রোবটিক্স প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা রাখে।"
বাংলাদেশ দলের কোচ মো. মুনজুর মোরশেদ জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে সমানভাবে টেক্কা দিতে পারে। এই অর্জন আগামী দিনের তরুণদের রোবটিক্স ও বিজ্ঞান চর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।