শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

ধেয়ে আসছে সূর্যের শক্তিশালী সৌর শিখা


সূর্যের অত্যন্ত সক্রিয় সৌর কলঙ্ক অঞ্চল এআর৪৪৩৬ থেকে উৎপন্ন শক্তিশালী সৌর শিখা ও করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই) ঘিরে মহাকাশে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর প্রভাবে পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে সাময়িক বেতার যোগাযোগ বিভ্রাটের পাশাপাশি উত্তর গোলার্ধে দৃষ্টিনন্দন মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে।

১৫ মে ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ 

ধেয়ে আসছে সূর্যের শক্তিশালী সৌর শিখা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সূর্য থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী সৌর শিখার প্রভাবে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে মহাকাশের পরিবেশ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের এআর৪৪৩৬ নামের একটি অত্যন্ত সক্রিয় সৌর কলঙ্ক অঞ্চল থেকে এই তীব্র সৌর শিখার উৎপত্তি হয়েছে। বর্তমানে সূর্যের ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার কারণে অঞ্চলটি সরাসরি পৃথিবীমুখী অবস্থানে থাকায় ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌর শিখার পাশাপাশি সূর্য থেকে ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (সিএমই) নামের বিশাল চার্জিত কণার মেঘও মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এই কণার মেঘটি পৃথিবীর কক্ষপথের সামান্য পেছন দিয়ে অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর কিছু অংশ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাধারণ সময়ের তুলনায় আরও দক্ষিণাঞ্চল থেকেও এই অরোরা দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে শক্তিশালী সৌর বিকিরণের কারণে কিছু অঞ্চলে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির বেতার যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চার্জিত কণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে প্রবেশ করে ঘর্ষণের সৃষ্টি করলে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে আকাশে সৃষ্টি হতে পারে মনোমুগ্ধকর মেরুজ্যোতি বা অরোরা। বিশেষ করে উত্তর স্কটল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় সবুজ ও লাল আলোর ঝলকানি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, বর্তমান গাণিতিক মডেল অনুযায়ী খুব বড় ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের সম্ভাবনা নেই। সূর্য নিয়মিতভাবেই এ ধরনের শক্তি নির্গত করে এবং পৃথিবী মাঝেমধ্যেই সেই শক্তির প্রভাবে আসে। তাই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলেও আপাতত জনজীবনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। মহাকাশ গবেষকরা কণার মেঘটির গতিপথ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নতুন কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।