নতুন মাইলফলক • মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড কেইনের, সামনে রোনালদো
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে শিরোপা জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার নতুন সুযোগ এসেছে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় আবুধাবিতে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন জাতির ওয়ানডে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল।
আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে ম্যাচটি। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে সিরিজ শুরু করতে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য শুধু ভালো খেলা নয়, বরং ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করা।
বাংলাদেশের পুরুষ জাতীয় দলের সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজ শিরোপার স্মৃতি ২০১৯ সালের। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এমন কোনো সিরিজে আর শিরোপা জেতা হয়নি দলের। ফলে আবুধাবির এই প্রতিযোগিতা নতুন করে সাফল্যের গল্প লেখার সুযোগ এনে দিয়েছে।
তবে কাগজে-কলমে প্রতিপক্ষকে বিবেচনা করে আগেভাগে শিরোপার স্বপ্ন দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ফলাফলই বাংলাদেশকে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে দলের।
সেই হতাশা পেছনে ফেলে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যদিও জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার বুঝিয়ে দিয়েছে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এবার নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে আগামী বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন লিটন দাস। তাঁর নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনা ও ভারসাম্য নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
ব্যাটিং বিভাগেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতি এসেছে। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের পর তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্ত, চার নম্বরে লিটন দাস এবং পরের দিকে তাওহিদ হৃদয়কে ঘিরে ব্যাটিংয়ের কাঠামো সাজানো হচ্ছে। লিটনকে চার নম্বরে খেলানোর সিদ্ধান্তে মিডল অর্ডারে ভারসাম্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে লিটনও নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগের দুই বছরে ওয়ানডেতে তাঁর রানসংখ্যা ছিল হতাশাজনক। কিন্তু চলতি বছরে ফিরে নয় ম্যাচে ৩০০ রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই ব্যাটার। অধিনায়ক হিসেবে এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে তাঁর বড় দায়িত্ব।
বাংলাদেশের পেস বিভাগ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলামের মতো পেসারদের নিয়ে শক্তিশালী আক্রমণ গড়ার সুযোগ রয়েছে দলের সামনে। অভিজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও পেস বোলিংয়ে বিকল্পের অভাব নেই।
তবে স্পিন বিভাগে সঠিক সমন্বয় খুঁজে বের করাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত হলেও তাঁর সঙ্গে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। বাঁহাতি স্পিনারের পরিবর্তে রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামের ওপর আস্থা রাখা হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েকেও সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দলটি সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে হারলেও শেষ ম্যাচে মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে দলটির।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতাও জিম্বাবুয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ফলে প্রথম ম্যাচেই লিটনদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দল অন্য দুই দলের বিপক্ষে একবার করে খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে। তাই শুরুতেই পয়েন্ট হারালে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চাপ বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া সে কারণেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
সাত বছর আগে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে যে শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতেছিল বাংলাদেশ, এবার আবুধাবিতে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। তবে স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ব্যাটিং, বোলিং ও কৌশল সব বিভাগেই ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে দলকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বোঝা যাবে, নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে।