নতুন যুগের শুরু • বলিভিয়াকে উড়িয়ে নতুন যুগের সূচনা, নিকো পাজে মুগ্ধ আর্জেন্টিনা
৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
প্রীতি ম্যাচ হলেও আর্জেন্টিনার জন্য বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে রাতটি হয়ে থাকল গোল উৎসবের। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আফ্রিকার দলটিকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বুরকিনা ফাসো। চতুর্থ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। এর মাত্র চার মিনিট পর বুরকিনা ফাসোর মাউমানি দিয়ালোর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান হয় ২-০।
১২ মিনিটে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তৃতীয় গোলটি করেন। এরপর ৩৫ মিনিটে নিকো পাজের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪-০। এক মিনিট পরই জুলিয়ান আলভারেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যান ৫-০ ব্যবধানে। চলতি মৌসুমে এটি ছিল আলভারেজের প্রথম গোল। গোলের পর তাঁর উদ্যাপনে উঠে আসে লিওনেল মেসির স্মৃতিও।
বিরতির পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সংযত ছিল তারা। ৫৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ষষ্ঠ গোল করেন। ম্যাচের যোগ করা সময়ে জুলিয়ানো সিমিওনে সপ্তম গোলটি করে আর্জেন্টিনার বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
পরিসংখ্যানেও ছিল আর্জেন্টিনার একচেটিয়া আধিপত্য। প্রথমার্ধেই তারা ১১টি শট নেয়, বিপরীতে বুরকিনা ফাসো একটি শটও নিতে পারেনি। বল দখলেও প্রায় ৮০ শতাংশ সময় এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে আফ্রিকার দলটি মাত্র একটি শট লক্ষ্যে নিতে পেরেছে।
তবে বুরকিনা ফাসোর এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পেছনে ছিল ভিন্ন এক গল্প। ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দলটির আর্জেন্টিনা সফরের জটিলতা তৈরি হয়। মরক্কো থেকে প্রথম চার্টার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে দলটি। পরবর্তী ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে গিয়ে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলতে রাজি হননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ আমির আব্দোউকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হয়। মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল মিডফিল্ডার চেক বেবেল দৌউম্বিয়া মাঠে ছিলেন। কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৯ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আগে আর্জেন্টিনায় পৌঁছায় দলটি। ফলে বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগও ছিল প্রায় নেই বললেই চলে।
এই জয় স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় জয়। ২০২৩ সালে কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও ৭-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
মেসি পরবর্তী সময়ের জন্য দল গড়ার পরীক্ষাতেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল স্কালোনির জন্য। সেই কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে নিয়মিত খেলোয়াড়দের বেশির ভাগকেই তুলে বদলি খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন তিনি। আর বদলি হিসেবে নেমেই মাস্তানতুয়োনো ও সিমিওনে গোল করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ বেনিনের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেটিই হতে পারে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। তার আগে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ এবং বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ দুই প্রীতি ম্যাচে ১১ গোল করে মেসিকে ছাড়াই ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।