আগামী শনিবারের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম চালুর নির্দেশ, না হলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৭ জুলাই ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা বা লিও মেসির মতো ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার যে স্বপ্ন সিআরসেভেন দেখেছিলেন, তা ডালাসের মাঠে এক ঝটকায় মলিন হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট কেটেছে স্পেন। আর তাতেই অশ্রুসিক্ত নয়নে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হলো ফুটবলের এই পর্তুগিজ মহাতারকাকে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত ছড়াল চরম উত্তেজনা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ভাঙতে পারেনি ডেডলক।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিটে) আসে সেই মহানাটকীয় মুহূর্ত। ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোকে। দুই পর্তুগিজ ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়ান তিনি। মেরিনোর এই এক গোলেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ৮ম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সহজ সুযোগ পায় স্পেন। তবে ডি-বক্সে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট মারেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এর কিছুক্ষণ পরেই পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে তার জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে দারুণভাবে রুখে দেন স্প্যানিশ দেয়াল উনাই সিমন। অন্যদিকে স্পেনের টানা দুটি আক্রমণ প্রতিহত করে পর্তুগালকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তাও।
৩৮ মিনিটে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল পর্তুগিজরা। জোয়াও ফেলিক্সের হেড উনাই সিমন ফিরিয়ে দেওয়ার পর ফিরতি বলে রোনালদোর শটও আটকে যায় স্প্যানিশ গোলরক্ষকের বিশ্বস্ত গ্লাভসে। ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের বুলেট গতির শট ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে পোস্টে আঘাত হানে। ভাগ্যের জোরে সে যাত্রায় বেঁচে যায় স্পেন। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে রোনালদো ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া শট সহজেই লুফে নেন সিমন। ম্যাচের গতি বাড়াতে ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। ফেলিক্স ও ক্যানসেলোকে তুলে তিনি মাঠে নামান রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোটকে। এর দুই মিনিট পর (৭৩ মিনিটে) স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের একটি বাঁকানো ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কস্তা।
শেষ ১৫ মিনিটে অলআউট আক্রমণে যায় পর্তুগাল। ভিতিনিয়ার দূরপাল্লার শট ডিফেন্সে বাধা পাওয়ার পর ফিরতি বলে ব্রুনোর শট সাইড নেটে লাগলে হতাশ হতে হয় পর্তুগিজ সমর্থকদের।
মেরিনোর গোলের পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে বার্নার্দো সিলভার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। রেফরির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই স্পেনের ডাগআউটে শুরু হয় জয়োল্লাস, আর মাঠের ভেতর হাঁটু গেড়ে বসে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে দেখা যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। এক ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে শেষ হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের।