রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স, সামনে মরক্কো


শেষ ষোলোর কঠিন লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভাঙতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে মরক্কোর বিপক্ষে লড়াই নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।

৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ 

এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স, সামনে মরক্কো
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্রত্যাশিত দাপট দেখালেও গোলের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে ফ্রান্সকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেলেও শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে ছিল ফরাসিদের একচেটিয়া আধিপত্য। ৭৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৫টি শট নেয়। বিপরীতে প্যারাগুয়ে মাত্র পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হয়। পাসিংয়েও ছিল বড় ব্যবধান—ফ্রান্স সফলভাবে ৫৫২টি পাস সম্পন্ন করে, যেখানে প্যারাগুয়ের পাসের সংখ্যা ছিল ১৭৫।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই বলের দখল নিজেদের করে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। প্রথম ১১ মিনিটে প্রায় ৯০ শতাংশ সময় বল ছিল ফরাসিদের পায়ে। তবে ২৩ মিনিট পর্যন্ত টানা চারটি এবং প্রথমার্ধে মোট সাতটি কর্নার পেলেও গোলের দেখা মেলেনি। ৩১তম মিনিটে ওসমান ডেম্বেলের দারুণ ক্রস থেকে হেডের সুযোগ পেলেও ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে।

৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেস কুবাসের ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও রেফারির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। প্রথমার্ধে ছয়টি শট ও ৭৮ শতাংশ বলের দখল নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের দুটি প্রচেষ্টাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও একই চিত্র দেখা যায়। ফ্রান্স ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালাতে থাকলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। ৫৫তম মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল। এরপর ইনজুরির কারণে ওমার আলদেরেতে ও হুলিও এনসিসো মাঠ ছাড়লে বদলি নামায় প্যারাগুয়ে। একই সময়ে ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে দেজিরে দুয়েকে মাঠে পাঠায় ফ্রান্স।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৬৭তম মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি বক্সে দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলেও প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন তিনি। ৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল এমবাপ্পের সপ্তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে আসেন।

গোল হজমের পর আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে মৌরিসিওর শক্তিশালী দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পান এমবাপ্পে। ৯৬তম মিনিটে তার টানা দুটি শট অসাধারণ সেভ করে প্যারাগুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।

অতিরিক্ত ১০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে শেষ আটে উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ফলে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স এবং চমক জাগানো মরক্কো।