বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
২০ মার্চ ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার অন্তত ৯০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছেন।
জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ভোর রাতে সাহরি খেয়ে রমজান মাসের রোজা শুরু করেছিলেন সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা। প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে তারা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় ২০০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। দরবার সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে ফতোয়া দিয়েছিলেন- পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালন করা যাবে। সেই মত অনুসারেই দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরীফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, তারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনা করে ঈদ উদযাপন করেন। তিনি জানান, আজ সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হবে। এ বিষয়ে তারা কারো সঙ্গে বিরোধিতা করতে চান না, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশাসন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলায় একদিন আগে ঈদ উদযাপনের প্রথা রয়েছে। এসব উপজেলার উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাতকানিয়ার মির্জাখীল, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সোনাকানিয়া; লোহাগাড়ার কলাউজান, বড়হাতিয়া, চুনতি; বাঁশখালীর ছনুয়া, চাম্বল, শেখেরখীল; পটিয়ার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া, মোহাম্মদ নগরসহ আরও বিভিন্ন এলাকা।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোহাগাড়া কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে রমজান ও ঈদ নির্ধারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়। দেশের অধিকাংশ মুসল্লিরা সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই ঈদ উদযাপন করেন। তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার ঐতিহ্য রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এটি বহুদিনের চর্চা। আইনশৃঙ্খলার কোনো সমস্যা না হলে প্রশাসন সাধারণত এতে হস্তক্ষেপ করে না। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবেই একদিন আগে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে।