জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা বাতিলসহ একাধিক দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ) এলাকায় সব ধরনের পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ এবং কোনো ধরনের অপারেশনাল কাজ চলছে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ জন সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।” এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
এনসিটি ইজারা বাতিলের পাশাপাশি পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।
বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।