শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক ‘ইপিএ’ চুক্তি স্বাক্ষর: শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭ হাজার পণ্য


দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে বাংলাদেশ ও জাপান প্রথমবারের মতো ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাকসহ ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যা দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে বড় সুযোগ তৈরি করবে।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ 

বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক ‘ইপিএ’ চুক্তি স্বাক্ষর: শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭ হাজার পণ্য
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ)। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে উপনীত হলো।

গতকাল শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।  বিপরীতে, ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল আমদানির জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক জাপানে রপ্তানি করা যাবে। জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং ও কেয়ারগিভিংসহ ১৬টি বিভাগের অধীনে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত মোট সাত দফা আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “এই ইপিএ কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন দুই দেশের সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে জাপানি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে। এটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এই ইপিএ চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।