শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

লিবিয়ার সাবেক নেতা গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা


লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তার মৃত্যুর স্থান ও ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ 

লিবিয়ার সাবেক নেতা গাদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। তবে তার মৃত্যু কোথায় ও কীভাবে ঘটেছে- তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।

সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবীর বরাতে বিবিসি জানায়, চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল জিনতান শহরে তার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আইনজীবীর দাবি, হামলাকারীরা দ্রুত অভিযান শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এদিকে লিবিয়ান নিউজ এজেন্সির বরাতে সাইফ আল ইসলামের রাজনৈতিক দলের প্রধানও মঙ্গলবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে, সাইফ আল ইসলামের বোন লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিনতান শহরে নয়- বরং আলজেরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণের সময় সাইফ আল ইসলাম নিহত হন। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল ইসলামকে একসময় মুয়াম্মার গাদ্দাফির সম্ভাব্য উত্তরসূরি এবং লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর সাইফ আল ইসলাম প্রায় ছয় বছর জিনতানে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক ছিলেন। বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিচার দাবি করেছিল। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পূর্বাঞ্চলে জারি করা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তিনি মুক্তি পান।

গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ চলছে। গাদ্দাফি আমলে সাইফ আল ইসলাম অনানুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার মাধ্যমেই একসময় লিবিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।