এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হতে না হতেই মাঠের বাইরের লড়াইয়ে উত্তপ্ত ক্রিকেট অঙ্গন। খেলোয়াড়দের বাণিজ্যিক অধিকার এবং সুরক্ষার প্রশ্নে এবার আইসিসির মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি সংস্থা ডব্লিউসিএ।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে যে ‘স্কোয়াড পার্টিসিপেশন টার্মস’ বা অংশগ্রহণের শর্তাবলি পাঠিয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে ডব্লিউসিএ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে উভয় পক্ষের সম্মতিতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, নতুন শর্তগুলো তার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি, বায়োমেট্রিক ডেটা এবং ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে আইসিসি একতরফা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের চুক্তিটি কেবল আটটি নির্দিষ্ট সদস্য বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু ডব্লিউসিএ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে খেলোয়াড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সকল ক্রিকেটারই এই আইনি সুরক্ষার আওতাভুক্ত হবেন।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন: “আইসিসির দেওয়া নতুন শর্তাবলি খেলোয়াড়দের বাণিজ্যিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় দলগুলো সুবিধা পেলেও কম আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ খেলোয়াড়দের শোষণমূলক শর্তে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ অনেক ক্রিকেটারের জন্য এই ইভেন্টই আয়ের প্রধান উৎস।”
আপত্তির মূল বিষয়গুলো:
বাণিজ্যিক ব্যবহার: খেলোয়াড়দের অনুমতি ছাড়াই তাদের ছবি ও পরিচিতি তৃতীয় পক্ষের কাছে লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা।
ব্যক্তিগত তথ্য: খেলোয়াড়দের বায়োমেট্রিক ও ব্যক্তিগত ডেটার ওপর আইসিসির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
অসম আচরণ: ছোট দেশ ও কম আয়ের খেলোয়াড়দের জন্য কঠোর ও বৈষম্যমূলক শর্তারোপ।
ডব্লিউসিএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপের আয়োজন ব্যাহত করতে চায় না, তবে খেলোয়াড়দের অধিকারের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সংস্থাটির দাবি, খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে পুরোনো (সম্মত) শর্তাবলিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং আইসিসিকে সেটিই কার্যকর করতে হবে।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন আইনি ও নৈতিক দ্বন্দ্ব টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।