সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১২৩ কোটি ডলার
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশ না নেওয়ার পেছনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্ত দায়ী বলে জানিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটি।
বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. একেএম ওলি উল্যার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর এবং সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দায়ী।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য যে মানুষটি দায়ী, তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকারও এর জন্য দায়ী।’ তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি আরও বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল। প্রতিবেদনে ১২ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট অঙ্গন থেকে সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় দলের কোচ ও ওই সময়ে সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং তৎকালীন বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনও তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে তদন্ত কমিটি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সে সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।
উল্লেখ্য, আইপিএলে রেকর্ড মূল্যে কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পাওয়ার পরও নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পেছনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ধরনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যায়নি। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।