শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

সরবরাহ সংকট না থাকলে রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে: বাণিজ্য উপদেষ্টা


সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হলে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, চলতি বছর রমজানে বাজার পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় আরও স্থিতিশীল থাকবে।

২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ 

সরবরাহ সংকট না থাকলে রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের জটিলতা দেখা না দিলে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে। উৎপাদন, আমদানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সামগ্রিকভাবে এই মূল্যায়নে পৌঁছানো হয়েছে।

রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের কোনো সংকট নেই, ডলারের সংকট নেই এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভোজ্যতেলের বাজারকে বৈচিত্র্যময় করা হয়েছে।

তিনি জানান, এর আওতায় বাজারে প্রায় ৫ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান তেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ভোজ্যতেলের পাইকারি দাম কম রয়েছে। প্রতিযোগিতা বাড়লে বাজারমূল্য স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টাস্কফোর্স ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জের কথা জানাননি। তারাও বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকার কথা বলেছেন। সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো সমস্যা না হলে রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমবে বলে আশা করেন তিনি।

এদিকে পদ্মা সেতু নিয়ে নিজের মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সময় দেশের মোট দেনা ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এই বিপুল দায়ের কারণে টাকার মূল্যমান প্রায় ৪৬ শতাংশ কমে গেছে।

তিনি বলেন, ঋণভিত্তিক যেসব ব্যয় করা হয়েছে, তা কাঙ্ক্ষিত আয় সৃষ্টি করতে পারেনি। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি দায় বেড়েছে এবং টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। এসব কারণেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, শুধু পদ্মা সেতুই নয়- কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেল সেতু ও পায়রা বন্দরের মতো বিভিন্ন প্রকল্পে অপরিকল্পিত ও অপরিণামদর্শী ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা রেল সেতুতে টোল বাবদ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয়ের প্রাক্কলন থাকলেও বর্তমানে আসছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। একইভাবে পদ্মা সেতু হলে জিডিপি ২ শতাংশ বাড়বে বলা হলেও বাস্তবে উল্টো জিডিপি কমছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।