ঢাকাসহ ৫ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা, থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) একটি চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঠিক এক দিন আগে পাঠানো ওই চিঠিতে পিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে তারা সমর্থন করে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি এই চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের কাছেও পাঠিয়েছে। এদিকে বিসিবির অনুরোধ- নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার একটি বোর্ড মিটিং ডেকেছে আইসিসি। তবে এই বৈঠক ডাকার পেছনে পিসিবির ই–মেইলের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
পিসিবির চিঠি পাঠানোর সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে আইসিসির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আইসিসি এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। সংস্থাটি গত সপ্তাহেই বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি পরিবর্তন করা হবে না এবং বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই ম্যাচ খেলতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার সমর্থন নিয়ে বিসিবি ভারতের মাটিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি গত সপ্তাহান্তে ঢাকায় হলেও কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আইসিসি বলছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, আর বিসিবি জানাচ্ছে তারা দলকে ভারতে পাঠাতে পারবে না।
এই অচলাবস্থার মধ্যে পিসিবির দেরিতে হস্তক্ষেপ গত এক সপ্তাহের জল্পনা–কল্পনার পর সামনে এসেছে। কিছু যাচাই না–করা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, পিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ নিয়ে সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তান নিজেদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও পুনর্বিবেচনা করতে পারে- এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে এ বিষয়ে পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি।
এই সংকটের সূত্রপাত ঘটে যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬–এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয়। সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না করা হলেও বাংলাদেশ–ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর পরই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দেশের ভেতরে খেলোয়াড়দের একটি বয়কট আন্দোলন শুরু হয়, যার প্রভাব পড়ে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। অভিযোগ ওঠে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলে বোর্ডের আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ টেনে এক জ্যেষ্ঠ বিসিবি কর্মকর্তা দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা ওই বয়কটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।