সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন
১২ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ
আলাদা তিনটি শহরের ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে উদ্বোধন অনুষ্ঠান হলেও আয়োজকদের মূল ভাবনা এক ও অভিন্ন- তিন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় গাঁথা। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী মঞ্চ মাতান আদিবাসী শিল্পী ও লোকজ পারফর্মাররা, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র মাধ্যমে দেশটির সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বকাপের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে এবারের অফিসিয়াল সং ‘ডাই ডাই’ (লেটস গো) পরিবেশন করেন। এছাড়াও মেক্সিকোর জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘মানা’ এবং বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে থাকা আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান ও জে বালভিনের মতো তারকারা সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখেন আজতেকা স্টেডিয়াম। অলিম্পিকসহ বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক আসরের সফল প্রযোজক মার্কো বালিচের নির্দেশনায় এই চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
ঐতিহাসিক এই উদ্বোধনের সাক্ষী হতে সকাল থেকেই মেক্সিকো সিটির রাজপথ রূপ নেয় বর্ণিল উৎসবের নগরীতে। সবুজ জার্সি ও ঐতিহ্যবাহী কাউবয় হ্যাট মাথায় দিয়ে ফুটবলপাগল মানুষের ঢল নামে আজতেকা স্টেডিয়াম অভিমুখে। ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়া এই ঐতিহাসিক মাঠে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধন হলো। বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করতে মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শেনবাউম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন এবং সরকারি কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) নির্দেশ দেন।
১২ জুন বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্ষণগণনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধন অনুষ্ঠান। যেখানে কানাডার গৌরবময় ইতিহাস ও মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তুলবেন অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালিসিয়া ক্যারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান র্যাপার সঞ্জয়সহ অন্যান্য শিল্পীরা। এর পরের দিন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের সমাপনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ও আকর্ষণীয় গল্পগাথার সাথে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিত্তা ও লিসার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।
জমকালো এই উৎসবের সমান্তরালে ৪৮ দেশের এই মেগা আসর ঘিরে শুরুতেই দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। ১০৪টি ম্যাচের সিংহভাগ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে চলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ও ভিসা জটিলতার কারণে আফ্রিকার সেরা রেফারি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশই করতে পারেননি। ইরান ফুটবল দলকে মাত্র এক দিনের ভিসা দেওয়া হয়েছে, ইরাকের এক ফুটবলারকে বিমানবন্দরে সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়েছে এবং সেনেগালের ফুটবলারদের তল্লাশির নামে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেয়নি বলেও জানা গেছে।
ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কিছুটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "ফিফা বিশ্বের রাজা নয়। তারা ইচ্ছা করলেই সবকিছু করতে পারে না।" এর বাইরে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়েও কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা, যেখানে কিছু ম্যাচের টিকিটের মূল্য ঠেকেছে ৩০ হাজার ইউএস ডলারে। পরবর্তীতে সাধারণ দর্শকদের ক্ষোভ কমাতে ৬০ ডলারের টিকিটের ব্যবস্থা করা হলেও তা সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে। শত বিতর্কের এই চাদর মাথায় দিয়েই শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াল ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।