বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
২০ জানুয়ারী ২০২৬, ২:০৪ অপরাহ্ণ
নিজ পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করত সিরিয়াল কিলার সম্রাট। গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালতে সম্রাট যে তথ্য দিয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রাম। তারা তিন ভাই ও চার বোন। নানা বাড়ি বরিশালে। তবে গ্রেফতারের পর নিজের নাম ও ঠিকানা নিয়ে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়ায় তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের।
জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানায়, সে ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত। ওই নারীরা যদি অন্য কারো সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াত কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করলে সে তাদের হত্যা করত। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে সে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে প্রথমে ওই যুবককে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় হত্যা করে এবং পরে নিচতলায় ওই তরুণীকেও হত্যা করে। পরে দুইজনের লাশ পুড়িয়ে ফেলে।
সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ছয় হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সবুজ ওরফে সম্রাট। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন।
পুলিশ জানায়, সম্রাট প্রায়ই নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ ও ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ পরিচয় দিত। সে দাবি করেছিল ব্যাংক কলোনি এলাকায় তার বাড়ি। কিন্তু তদন্তে ওই ঠিকানা ও পরিচয়ের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। বরং ওই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামের সঙ্গে নিজের নাম মিলিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল সে।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরমান আলী বলেন, সম্রাট একজন বিকৃত রুচির মানুষ ও সাইকোপ্যাথ। তার আচরণ ও বক্তব্যে মানসিক বিকার স্পষ্ট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা জানান, তিন থেকে চার বছর ধরে সম্রাট সাভার মডেল থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড় এলাকায় ঘোরাফেরা করত। অনেক সময় পুলিশের কাছ থেকেও টাকা চাইত। অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকলেও প্রায়ই উচ্চবাচ্য ও গালিগালাজ করত। কখনো কখনো তার হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন দেখা যেত, তবে একটি বাটন ফোন সবসময় সঙ্গে থাকত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভারে ছয়টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গত বছরের ৪ জুলাই মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে চারটি অজ্ঞাতনামা লাশ এবং সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে একটি লাশ সরাতে দেখা যায় সম্রাটকে। এরপরই তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাটের স্বীকারোক্তি, পরিচয় ও হত্যার কারণ যাচাই করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।