শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে দেশ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি


পৌষের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা শীতের তীব্রতা এখন দেশজুড়ে প্রকট রূপ নিয়েছে। ঘন কুয়াশা, হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাস ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারির শুরুতে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আরও বাড়তে পারে।

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ 

কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে দেশ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে দেশজুড়ে শীত যেন জেঁকে বসেছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও তা ক্ষণিকের। কয়েকদিন ধরে হিমালয় থেকে নেমে আসা শীতল বাতাসে কনকনে ঠান্ডা আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের দাপটে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও সামান্য কমতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহের আওতা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা স্থায়ী ছিল। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সকাল বেলা হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যায়। দুপুরের পর সূর্য আড়াল হয়ে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়। শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে—৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, নৌপরিবহণ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তীব্র শীতে দিনমজুরদের কাজের সংকট দেখা দিয়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

রংপুর অঞ্চলে এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। কর্মজীবী মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। শনিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শিগগিরই কুয়াশা কমে শৈত্যপ্রবাহের প্রবণতা বাড়তে পারে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশার প্রভাবে নৌযোগাযোগেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন নৌপথে শত শত নৌযান মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। কুয়াশার কারণে শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চাঁদপুর-ভোলা-বরিশালসহ সব নৌপথে সাময়িকভাবে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে অতিমাত্রায় কুয়াশার কারণে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের চলাচল শুরু হয়।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সামনে আরও কয়েকদিন শীতের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হবে।