ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি এবং নির্বাচনি অবকাঠামো সুরক্ষাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য, ছবি, ভিডিও ও ভয়েস রেকর্ড তাৎক্ষণিকভাবে ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে যাবে। সে অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে অ্যাপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং অ্যাপটি ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে মোট ৭২ ঘণ্টার জন্য ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আইডিইএ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় তৈরি এই অ্যাপে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ইসির কর্মকর্তারা নির্ধারিত আইডির মাধ্যমে অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবেন।
ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে ঘটনার ছবি, ভিডিও কিংবা লিখিত তথ্য পাঠাতে পারবেন। এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আসনভিত্তিক মনিটরিং সেলের কাছে পৌঁছাবে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে। সেখানেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বিষয়টি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোটগ্রহণ বন্ধসহ যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ইসি।অ্যাপটির কেন্দ্রীয় অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনের মনোনীত কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল। ইসি সারা দেশের ভোটগ্রহণ চলাকালীন সব ঘটনার বর্ণনা ও পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। তবে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা শুধু নিজ নিজ আওতাধীন এলাকার তথ্য দেখতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটি কাজ করছে। ভোট সামনে রেখে ৮২ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এই সেলে সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিজ নিজ বাহিনীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন।এ বিষয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার পর বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। এর পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাই প্রধান কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের শঙ্কা থাকে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা আগেই নির্দেশনা দিয়েছি।’ভোটে অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।