জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ঘটিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে এই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই— পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টদের এই অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।”
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া ভাষণে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আনন্দের এই দিনে তিনি গভীর বেদনার সঙ্গে জাতির সামনে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং দেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা আমাদের সবার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি।”
ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”দেশবাসীর প্রতি সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিস্ট-টেরোরিস্ট শক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইলেও জনগণের ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয় নিশ্চিত করবে।
তরুণদের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, তরুণদের রক্ষা করতে পারলেই দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, “যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা বুঝে গেছে তরুণরাই তাদের পুনরুত্থানের সবচেয়ে বড় বাধা। এই ভীতিহীন, অস্ত্রহীন তরুণদের নিয়েই তারা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত।”তিনি আরও বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির লক্ষ্য হলো নির্বাচন আসার আগেই অস্থিরতা সৃষ্টি করে পথ পরিষ্কার করা এবং পুরোনো শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। এজন্য তারা গোপন হত্যা ও আরও কঠিন পরিকল্পনার পথে হাঁটছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। আমরা তাদের ওপর নজর রাখব এবং বাকি প্রতিটি দিন উৎসবমুখর করে রাখব। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা দেশের ওপর জনগণের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”ভাষণের শেষাংশে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি আর কখনো এই দেশের পবিত্র মাটিতে ফিরে আসতে পারবে না।