বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করবেন কীভাবে?- জানুন বিস্তারিত


জন্ম নিবন্ধন একজন মানুষের নাগরিক পরিচয়ের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পাসপোর্ট, শিক্ষা, বিবাহ নিবন্ধনসহ রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা পেতে জন্ম নিবন্ধন সনদ অপরিহার্য।

১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ 

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করবেন কীভাবে?- জানুন বিস্তারিত
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জন্ম নিবন্ধন হলো একজন ব্যক্তির জন্মের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ, বাবা-মায়ের নাম, জাতীয়তা ও ঠিকানা নথিভুক্ত করার একটি আইনগত প্রক্রিয়া। এটি নাগরিক অধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাসপোর্ট করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিবাহ নিবন্ধন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে জন্ম নিবন্ধন সনদ অত্যাবশ্যক।

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিবন্ধক রেজিস্টার বা কম্পিউটারে জন্মসংক্রান্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করেন এবং পরে একটি জন্ম সনদ প্রদান করা হয়।

যেভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করবেন

জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে প্রথমে https://bdris.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর আবেদন ফর্মে ব্যক্তির সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার তথ্য অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। সব তথ্য পূরণ শেষে আবেদন সাবমিট করতে হবে।আবেদন সাবমিট করার পর একটি প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। সেই কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (প্রয়োজন অনুযায়ী)

১। ইপিআই (টিকা) কার্ড (যদি প্রযোজ্য হয়)

২। পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ)

৩। আবেদনকারী বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর

৪। পাসপোর্ট আকারের ছবি

৫। স্বাস্থ্যকর্মীর প্রত্যয়নপত্র (৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য)

৬। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (৫ বছর বয়সের বেশি হলে, প্রয়োজনে চিকিৎসকের প্রত্যয়নসহ)

৭। হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৮। ফ্যামিলি ট্রি (পিতা-মাতার নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে)

সাবমিট, যাচাই ও অনুমোদন

প্রিভিউ দেখে আবেদন সাবমিট করলে একটি অ্যাপ্লিকেশন নম্বর পাওয়া যাবে। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর এসএমএস বা ইমেইলে কনফার্মেশন পাঠানো হবে।সম্ভাব্য ডুপ্লিকেট দেখালে নাম ও জন্মতারিখ মিলিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে এবং প্রয়োজনে ঘোষণাপত্র দিতে হবে। এরপর স্থানীয় নিবন্ধক (যেমন ওয়ার্ড সচিব) আবেদন যাচাই করবেন। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে অফিসে ডাকা হতে পারে।

অনুমোদন হলে একটি ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর তৈরি হবে। তখন বাংলা ও ইংরেজি- উভয় ভাষায় জন্ম সনদ ডাউনলোড করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে ভিজিট করুন- https://everify.bdris.gov.bd/