শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপি ভেঙে যায়নি, আরও শক্ত হয়েছে: মানবাধিকার দিবসে তারেক রহমান


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিরাট ক্ষতির মুখেও বিএনপি ভেঙে যায়নি; বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন ও আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে দল আরও দৃঢ় হয়েছে। মানবাধিকার দিবসে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিগত ১৬ বছরের দমন-পীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার–সম্মত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১৮ অপরাহ্ণ 

বিএনপি ভেঙে যায়নি, আরও শক্ত হয়েছে: মানবাধিকার দিবসে তারেক রহমান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দলটি মারাত্মক ক্ষতি সহ্য করলেও ভেঙে পড়েনি; বরং সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি, পুনর্মিলন ও আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আরও দৃঢ় হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “১৬টা বছর ধরে বাংলাদেশ যেন একটা কালো মেঘের নিচে চাপা পড়ে ছিল। কেউ সেই অন্ধকার খুব তীব্রভাবে টের পেয়েছে, কেউ চুপচাপ বয়ে বেড়িয়েছে। যাদের রাজনৈতিক অবস্থান তখনকার পতিত সরকারের বিপরীতে ছিল, তাদের জন্য এই অন্ধকার ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।”তারেক রহমান অভিযোগ করেন, রাতের বেলা দরজায় কড়া নাড়া, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, ভয়কে সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলা এসব ছিল গত যুগের দৈনন্দিন চিত্র। অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জনের অপেক্ষায় থেকেও আর ফিরে পায়নি।

তিনি বলেন, বিএনপি সবচেয়ে বেশি দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, মিথ্যা মামলা সব ক্ষেত্রেই বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বিএনপির ঘর থেকেই।তারেক রহমান আরও বলেন, শুধু বিএনপিই নয় ছাত্র, সাংবাদিক, লেখক, সাধারণ মানুষ সবাই মৌলিক মানবাধিকারের সংকটে ভুগেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, অবস্থান জানানোর অধিকার, নিরাপত্তা সবকিছুই ছিল হুমকির মুখে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে তাকে কথা বলার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল। কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন তার বক্তব্য প্রকাশ না করে এমন নির্দেশনা জারি ছিল। তবুও নীরবতার চাপের মাঝেও তিনি অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছেন। তারেক রহমান বলেন, এই অন্ধকার সময়টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন ধৈর্য ও প্রতিরোধের প্রতীক। মিথ্যা মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে যাননি। ব্যক্তিগত বেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পরিবারও সেই সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে- এক ছেলে কারাগারে, আরেকজনকে হারাতে হয়েছে চিরতরে। তিনি বলেন, “ইতিহাস বলে, কষ্ট মানুষকে সবসময় তিক্ত করে না, কখনো কখনো আরও মহান করে তোলে।”

তারেক রহমান বলেন, এখন বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনীতির চেয়েও বড় কিছু- একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মতকে হুমকি মনে করা হবে না। তিনি জানান, বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতি বর্জন করছে এবং সমাধানমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী। “কোনো বাংলাদেশিকে রাষ্ট্রের ভয়ে বাঁচতে হবে না- সে সরকার–সমর্থক হোক বা বিরোধী।”স্ট্যাটাসের শেষে তারেক রহমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার আবরার ফাহাদ, মুশতাক আহমেদ, ইলিয়াস আলী, সাগর-রুনি ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকারই মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক শর্ত, এবং ভবিষ্যতে এমন দায়মুক্তি যেন আর কখনো ফিরে না আসে।