শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা


মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রচারের ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিটি মানুষের জীবন যেন মর্যাদা ও বৈষম্যহীনভাবে মূল্যায়িত হয়, সে জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ বক্তব্য দেন।

১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ 

মানবাধিকারকে বিশ্বাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মানবাধিকারকে মানুষের বিশ্বাস ও নৈতিকতার অংশ হিসেবে প্রচার করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সবার জীবনের মূল্য যেন মর্যাদার সঙ্গে এবং কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় মানবাধিকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সকল আন্তর্জাতিক অংশীদারের সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি জানান, এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘মানবাধিকার, আমাদের নিত্যদিনের অপরিহার্য’- কে সামনে রেখে বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র এবং জাতিসংঘ সনদে অন্তর্ভুক্ত সব মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় অঙ্গীকার অটল।

বাংলাদেশে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর জাতি এবার মানবাধিকার দিবস উদযাপন করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে জনগণ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। সেই সংগ্রামই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে।”তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে একটি গণতান্ত্রিক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইউনূস বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হয়েছে—যেখানে পতিত স্বৈরশাসক সরকারের সদস্যদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।গর্বের সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত ৯টি মূল আন্তর্জাতিক চুক্তির সবগুলোতেই যোগ দিয়েছে। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে গুম-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন- ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স। এছাড়া নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সব মূল কনভেনশনে সই করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। সংঘাত, মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি- এসব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আট বছর পেরিয়ে গেলেও মিয়ানমার এখনো একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুততম সময়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।”

তিনি জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনেও রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।গাজাসহ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানাই এবং ন্যায্য স্বাধীনতার সংগ্রামে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে আছি।”