জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ হাজির হবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার পর তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে পারেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন-অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন। তাদের বিরুদ্ধে এ মামলায় মোট ৬২ জন সাক্ষী উপস্থাপনের কথা রয়েছে। বর্তমানে গ্রেফতার আছেন ছয়জন আসামি- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল, আনোয়ার পারভেজ।
গত ২৭ নভেম্বর ২১ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তার আগে ২৩ নভেম্বর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া শিক্ষার্থী একজন সাক্ষ্য দেন এবং জানান, মৃত ঘোষণার পর পথে পুলিশ লাশটি তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। একইভাবে গত ১৮, ১৬, ১৩, ১২, ১১ ও ১০ নভেম্বর বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দেন।সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর থেকে মামলাটিতে একাধিকবার সাক্ষী হাজির না হওয়ায় সময় পিছিয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও সাংবাদিক মঈনুল হক সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট এ মামলার ফর্মাল চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিদের মধ্যে ২৪ জন এখনও পলাতক, যাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।মামলার অগ্রগতি ও আজকের জবানবন্দি বিচারকাজে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।