শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

দুর্নীতি–লুণ্ঠনের রাজনীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা


চলমান দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও শোষণের রাজনীতির বিপরীতে সমতা ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বামপন্থী দলগুলো ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে জোটের ঘোষণাপত্র উত্থাপন করা হয়, যেখানে ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়।

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ 

দুর্নীতি–লুণ্ঠনের রাজনীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চলতি ধারার দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও শোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে বামপন্থী দলগুলো ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন থেকে এ ঘোষণা আসে। কনভেনশন আয়োজন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ।

নতুন জোট গঠনের পাশাপাশি বাম–প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান আয়োজকরা। কনভেনশনে ঘোষণাপত্র পাঠ ও ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার ভিত্তিতে আগামী আন্দোলন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

‘জুলাই সনদ গ্রহণযোগ্য নয়’ — বজলুর রশীদ ফিরোজ

কনভেনশনের সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, “জুলাই সনদে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, গণ–অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। “১৫ মাসের মাথায় বিজয় হাতছাড়া হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লুটপাট ও দুর্নীতির ধারায় এখনো দেশ পরিচালিত হচ্ছে। তাই জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক উত্থান জরুরি,” বলেন তিনি।

‘রেইনবো কোয়ালিশনের’ আহ্বান — মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশ এখনও গভীর সংকট, নৈরাজ্য ও দুর্নীতির মধ্যে নিমজ্জিত। তিনি বলেন, “চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বাম–প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তির বৃহত্তর ‘রেইনবো কোয়ালিশন’ গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাম–প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার গঠনই হবে সংকট উত্তরণের পথ।

‘আজ থেকে আমাদের পরিচয়—গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ — শরীফ নুরুল আম্বিয়া

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, আজ থেকে বাম রাজনীতির কর্মীদের একটাই পরিচয়—গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অংশ। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “মব বায়োলেন্সসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্পৃক্ত। এসব অপকর্ম আর চলতে দেওয়া হবে না।”

ঘোষণাপত্র: জনগণের ‘নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ার অঙ্গীকার

ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন। ঘোষণাপত্রে বলা হয়—
দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও প্রতিশ্রুতিময় করতে প্রগতিমুখী গণতান্ত্রিক ধারার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন, নারী সংগঠন, শ্রমিক–কর্মজীবী সংগঠন, বিভিন্ন জাতিসত্তা এবং অধিকার আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্মাশ্রয়ী উগ্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান

৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে ধর্মাশ্রয়ী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হামলা চালাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “লালন–বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা, মাজার–আখড়া ভাঙা—এ অপতৎপরতা আর চলতে দেওয়া যাবে না। সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

যুক্তফ্রন্টের কাঠামো ও পরবর্তী ধাপ

কনভেনশনে জানানো হয়—

সারাদেশে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

জেলা–জেলায় কনভেনশন করে ‘পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হবে।

‘যৌথ নেতৃত্বে’ পরিচালনা কমিটি যুক্তফ্রন্টের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

সব গণতন্ত্রমনা প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে নতুন জোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারী বক্তারা

কনভেনশনে বক্তব্য দেন—

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান

ঐক্য ন্যাপ সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর

বিভিন্ন প্রগতিশীল, নারী, শ্রমিক, জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ