যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছে: শি জিনপিং
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে, যেখানে বিইআরসির নির্ধারিত দামের তুলনায় অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সংকটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় এই সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু আমদানি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হলেও এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন আমদানিকারকেরা। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রেখেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির কারণ হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ফলে একদিকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।