বাংলাদেশ মেরামতে সরকারের থ্রি-আর কৌশল: প্রধানমন্ত্রী
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারের অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে বিষয়টি যুক্ত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেরও একটি প্রতিশ্রুতি বলে জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। এর ফলে সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধন আনতে হলে গণভোটের প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদসহ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। সংসদে সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা নিয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধনী বিল প্রস্তুত করা হবে। সালাউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। এরপর বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে পাস হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।