মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টিআইএফএফের পর অস্কারেও জায়গা করে নিল থেজা রিওর ‘অ্যাং’


টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অ্যাং’। নাগাল্যান্ডের কনিয়াক জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি টিআইএফএফে আন্তর্জাতিক জুরি পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি অস্কারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ 

টিআইএফএফের পর অস্কারেও জায়গা করে নিল থেজা রিওর ‘অ্যাং’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা অ্যাং’। নাগাল্যান্ডের কনিয়াক জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

থেজা রিও ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সেটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। এবার সেই গল্পকেই আরও বিস্তৃত পরিসরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই নির্মাতা।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি ‘অ্যাং’ কে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করে। এর জন্য সিনেমাটি পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার। নির্মাণশৈলী, ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবন ও জগতের গভীর আবেগপূর্ণ চিত্রায়নের জন্য ছবিটির প্রশংসা করেছে জুরি।

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী কোহিমায় জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে ‘অ্যাং’কে সঙ্গে নিয়ে তারা পথ চলেছেন এবং গল্পটি নিজেদের মতো করে বলার বিশ্বাস কখনো হারাননি। নির্মাতার ভাষ্য, প্রথম সিনেমা হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার ও চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। নিজের জায়গা, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন।

ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে গড়ে ওঠা এক নির্জন কনিয়াক গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ‘অ্যাং’-এর গল্প। গ্রামের প্রধান আংবা দেখছেন, একে একে তার মানুষজন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কাছের আমেরিকান মিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে তারা গ্রহণ করছে নতুন জীবন- পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা ও নতুন ভাষা।

পুরোনো গ্রামে থেকে যান শুধু আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। তারা যেন হারিয়ে যেতে বসা একটি সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী। এই পরিবারের গল্পের মধ্য দিয়ে থেজা রিও তুলে ধরেছেন উপনিবেশ, ধর্মীয় প্রভাব ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস।

‘অ্যাং’কে কেবল একটি চলচ্চিত্র হিসেবে দেখছেন না নির্মাতা। এটি নাগা জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে বলা এক আত্মকথন, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনার সঙ্গে মিশে গেছে একটি জাতির স্মৃতি, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্ন। নিজেদের সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোয় আবেগাপ্লুত থেজা রিও। টিআইএফএফের জুরিকে কাজটির স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সংস্কৃতি ও নিজেদের জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াও তার জন্য বিশেষ অর্জন।

সাধারণত অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ তাদের পক্ষ থেকে একটি সিনেমা পাঠায়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখার পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল। ফলে ২০২৭ সালের অস্কার ঘিরে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’- দুটি সিনেমাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।