শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বারুদের ওপর লেখা বিপ্লব—নাহিদ ইসলামের হাতে শহীদের স্মৃতিবাহী হ্যান্ডমাইক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত স্মৃতি, শহীদদের নাম এবং আন্দোলনের চিহ্ন বহনকারী একটি বিশেষ হ্যান্ডমাইক হাতে সিরাজগঞ্জের ১১ দলীয় লংমার্চে স্লোগান দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শহীদ মুগ্ধের স্মৃতি ও রাজপথের টিয়ারশেল যুক্ত এই শিল্পকর্মটি হাতে নিয়ে "ইনকিলাব, ইনকিলাব" স্লোগান দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাই যেন নতুন করে রাজনীতির মাঠে সজীব হয়ে উঠেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ 

বারুদের ওপর লেখা বিপ্লব—নাহিদ ইসলামের হাতে শহীদের স্মৃতিবাহী হ্যান্ডমাইক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় লংমার্চে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যখন হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন—“ইনকিলাব, ইনকিলাব”—তখন সেটি ছিল শুধু একটি হ্যান্ডমাইক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং এক শিল্পীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

নাহিদ ইসলামের হাতে থাকা এই হ্যান্ডমাইকটি তাকে একজন ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন। জানা যায়, উপহারদাতার এক বন্ধু আগের দিন সন্ধ্যায় শহীদ মুগ্ধের জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে কবরস্থ করে আসেন। পরদিন সেই বন্ধুই পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন বলে বর্ণনা রয়েছে।

এই শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীর ইচ্ছা ছিল—একদিন নাহিদ ইসলাম এই মাইক হাতে নিয়ে স্লোগান দেবেন। সেই স্বপ্নেরই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে সিরাজগঞ্জের ১১ দলীয় লংমার্চে।

হ্যান্ডমাইকটির ভেতরের অংশেও লেখা রয়েছে বিভিন্ন শহীদের নাম। আর উপরের অংশে রয়েছে ‘৪৭, ৭১, ২৪’—বাংলাদেশের ইতিহাস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে প্রতীকীভাবে ধারণ করা তিনটি সংখ্যা।

হ্যান্ডমাইকটির সঙ্গে ঝুলছে একটি টিয়ারশেল। এটি কোনো প্রতীকী বস্তু নয়; আন্দোলনের সময় শিল্পী নিজেই এটি পেয়েছিলেন এবং জুলাইয়ের স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজের শিল্পকর্মের অংশ হিসেবেই টিয়ারশেলটিকে যুক্ত করেন তিনি।

দূর থেকে শিল্পকর্মটি হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়—এর প্রতিটি অংশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি করে গল্প, একটি করে স্মৃতি এবং জুলাইয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়।

আজ সেই স্মৃতিবাহী হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে নাহিদ ইসলাম যখন স্লোগান দিচ্ছেন—“ইনকিলাব, ইনকিলাব”, তখন মনে হলো, জুলাইয়ের শহীদ-আহত এবং আন্দোলনকারী তরুণ প্রজন্মের স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষা এখনও রাজনীতির মাঠে জীবন্ত।

এই দৃশ্য আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিল—আমরা আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ভাবধারাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছি।

নাহিদ ইসলাম—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত তরুণ প্রজন্মের স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাজনীতি করা একজন নেতা। এমন একজন নেতার সঙ্গে পথ চলতে পেরে আমি গর্বিত।