রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: ‘বিদেশে কিছু পেলে ১০% দিয়েন’, দুদককে আসিফ মাহমুদ


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ বলেছেন, বিদেশে তার অর্থ পাওয়া গেলে সেখান থেকে যেন তাকে ১০ শতাংশ দেওয়া হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ 

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: ‘বিদেশে কিছু পেলে ১০% দিয়েন’, দুদককে আসিফ মাহমুদ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগই প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।

বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুষ লেনদেনসংক্রান্ত অনিয়ম। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধানে নেমেছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’ পরে একইদিন বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও দুদকের অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন এনসিপির এই মুখপাত্র।

সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্টদের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার ভাষ্য, একবার ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, পরে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং কয়েকদিন আগে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা- এভাবে অভিযোগের অঙ্ক পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘২ কোটি ৭৬ লাখ থেকে ১১ হাজার কোটিতে উঠে যায়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’

দুদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার না হওয়ায় এটি এখনও আগের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে। তার দাবি, সরকার কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে এর নানা পদ্ধতি রয়েছে এবং অতীতে দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঘটনাও দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নিলেও আওয়ামী লীগের সময়কার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের কতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘প্রথম রাজনীতির যে ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মামলাটা করা হলো, সেটা আমার বিরুদ্ধে করা হলো।’ তিনি দাবি করেন, বিএনপির সময় হওয়া একটি পদোন্নতির ঘটনায় তাকে ঘিরে দুদক অনুসন্ধান করছে- এ বিষয়ে তিনি দুই দিন আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ওই অভিযোগে কাজ না হওয়ায় এখন নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ আসতে থাকলেও তিনি এর জন্য প্রস্তুত আছেন।