আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন
২৭ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রাসুয়াগড়ি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় থাকা শত শত তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কৈলাস পর্বত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলজুড়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কাঠমান্ডুভিত্তিক টাচ কৈলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানান, ৯৩ জন নেপালিসহ মোট ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর বুধবার সীমান্ত অতিক্রম করার কথা ছিল। তবে বন্যার কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, নিখোঁজ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব তীর্থযাত্রী বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ৭১ জন, লিফ হলিডেজের ৫৫ জন, কাঠমান্ডু হলিডেজের ১৭ জন, কৈলাস জার্নির ৩১ জন, এক্সপ্লোর ভ্যাকেশনের ৭ জন, ট্রেকার্স সোসাইটির ৯২ জন, রিচা ট্যুরসের ১২ জন, ফিশটেইল ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের ২৭ জন, হিমালয়ান গ্লেসিয়ারের ৬২ জন এবং আলপাইন ইকো ট্রেকের ১৬ জন ক্লায়েন্ট রয়েছেন।
ট্রেকিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের সভাপতি সাগর পান্ডে বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তীর্থযাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নেপালেই নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ পর্যটকরা দুই ডজনের বেশি দেশের নাগরিক।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, ব্রিটেনের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫৫৮ জন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে তিব্বতে নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত তিনজনেই স্থির রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া ও নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট