বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

তীব্র দাবদাহে ইউরোপে নতুন আতঙ্ক ‘মাংসখেকো’ ব্যাক্টেরিয়া


ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা দাবদাহের মধ্যে এক নতুন ও প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মহাদেশটির মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে এবার যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসৈকতগুলোতেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের এক মাংসখেকো ও বিপজ্জনক ব্যাক্টেরিয়া। তীব্র গরমে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটছে, যা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানির কারণ হওয়া এই দাবদাহে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে।

৯ জুলাই ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ 

তীব্র দাবদাহে ইউরোপে নতুন আতঙ্ক ‘মাংসখেকো’ ব্যাক্টেরিয়া
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা দাবদাহের মধ্যে এক নতুন ও প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মহাদেশটির মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে এবার যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসৈকতগুলোতেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের এক মাংসখেকো ও বিপজ্জনক ব্যাক্টেরিয়া। তীব্র গরমে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটছে, যা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানির কারণ হওয়া এই দাবদাহে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিব্রিও এমন এক ধরণের ব্যাক্টেরিয়া যা সাধারণত উষ্ণ বা ঈষদুষ্ণ নোনা পানিতে (যেখানে মিষ্টি পানি ও সমুদ্রের পানি মেশে) জন্মায়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়লে এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিএস) কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) তথ্য ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি মানচিত্র তৈরি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর এই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে বাল্টিক সাগরে লবণাক্ততার পরিমাণ কম এবং পানির তাপমাত্রা বেশি থাকায় ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক,সুইডেন, জার্মানি ও পোল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো এই ব্যাকটেরিয়ার জন্য আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে লবণাক্ততা বেশি থাকায় ঝুঁকি কিছুটা কম হলেও, ভারী বৃষ্টির পর নদীর মোহনাগুলোতে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

চলতি জুলাই মাসের শুরুতে ইসিডিএস ইউরোপের আটটি দেশকে এই সংক্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেশগুলো হলো- বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন।

এছাড়াও জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গত মাসে স্পেনের বেশ কিছু সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধও ঘোষণা করা হয়েছিল।

ভিব্রিও ব্যাক্টেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে:

ক্ষতস্থানের সংক্রমণ: শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা খোলা ক্ষত নিয়ে দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটে। ক্ষতস্থান লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথা এর প্রাথমিক লক্ষণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এটি মাংসখেকো রোগে রূপ নিয়ে ত্বকের টিস্যু ধ্বংস করতে পারে, যা পরবর্তীতে রক্তে ছড়িয়ে ‘সেপসিস’ তৈরি করে। এতে রোগীর অঙ্গহানি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

খাদ্য বিষক্রিয়া: এই ব্যাক্টেরিয়াযুক্ত দূষিত সামুদ্রিক খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি ও তীব্র জ্বর দেখা দেয়।

অন্যান্য ঝুঁকি: সাঁতার কাটার সময় অসাবধানতাবশত কানের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া পানি গিলে ফেলার কারণে শিশুরা সহজে এতে আক্রান্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফ্রান্সিস হাসার্ড জানিয়েছেন, সাধারণ ও সুস্থ মানুষের জন্য এই ব্যাক্টেরিয়ার ঝুঁকি কিছুটা কম হলেও যাদের লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

নিরাপদ থাকতে বিশেষজ্ঞদের প্রধান পরামর্শগুলো নিচে দেওয়া হলো: ১. সাম্প্রতিক কোনো অস্ত্রোপচারের ক্ষত, কাটাছেঁড়া বা নতুন ট্যাটু নিয়ে সমুদ্রের পানিতে নামা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে। ২. কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা শেলফিশ (যেমন: অয়েস্টার বা ঝিনুক জাতীয় খাবার) খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩. সমুদ্রের পানি থেকে ওঠার পর যদি শরীরের কোনো ক্ষতস্থানে দ্রুত ফোলা ভাব, লালচে রঙ বা প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়, তবে কোনো অবহেলা না করে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।