সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন
১১ জুন ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলেও সারা বছরই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন করদাতারা। তবে কর প্রশাসনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমায় উৎসাহিত করতে এক অভিনব কর ছাড় ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দিলে কর রেয়াত বা ছাড় পাওয়া যাবে, আর দেরিতে দিলে গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন ব্যবস্থার ঘোষণা দেন। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরকে ৪টি প্রান্তিকে (কোয়ার্টার) ভাগ করে এই কর ছাড় ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের হিসাব করা হবে:
অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে কোনো করদাতা তাঁর আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে তিনি বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম), সেই পরিমাণ টাকা কর রেয়াত বা ছাড় হিসেবে পাবেন করদাতা।
এই তিন মাসকে রিটার্ন দাখিলের স্বাভাবিক সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড়ও পাওয়া যাবে না, আবার কোনো জরিমানাও গুনতে হবে না। করদাতারা কেবল তাঁদের নির্ধারিত স্বাভাবিক কর পরিশোধ করলেই চলবে।
স্বাভাবিক সময় পার হওয়ার পর বছরের প্রথম তিন মাসে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা গুনতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা (এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ মূল করের সাথে পরিশোধ করতে হবে।
অর্থবছরের একেবারে শেষ তিন মাসে এসে রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে। এ সময়ে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা (এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং দেশের সার্বিক কর প্রশাসনকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন করদাতারা বছরের যেকোনো সময় আইনি জটিলতা ছাড়াই রিটার্ন দেওয়ার স্বাধীনতা পাবেন, অন্যদিকে দ্রুত রিটার্ন দিলে আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় কর দেওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে।