কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৯ আগস্ট ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘব ও তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে শিগগিরই লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে লবণ চাষিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, শুধু কৃষকদের নয়, লবণ চাষিদের মাঝেও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবে সরকার শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে। লবণের এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে লবণ চাষিরা স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্ধারিত সেই মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে লবণ চাষিদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।
সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্র দেশের জনগণের বড় সম্পদ। সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বেকারত্ব কমাতে সহায়তা করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নতুন করে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে সময় প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার সে কাজ শুরু করেছে। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কোন পথে এগোবে-সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি সরকার জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা মানুষের শান্তি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে- সে সিদ্ধান্ত দেশের জনগণকেই নিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে-এটাই তার প্রত্যাশা।