সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে স্থগিত, শুনানি ১৬ জুন
১১ জুন ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের কিছু পরিমার্জন ও পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। পরিমার্জন কমিটির সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষাক্রমে শরিফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠ্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পরিকল্পনা করেছে-পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে যেভাবে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধর মতো বিপ্লবীদের উপস্থাপন করা হয়েছে, ঠিক একই বিন্যাসে ওসমান হাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সভায় মাধ্যমিকের শিক্ষাক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবইয়ে কিছু জরুরি পরিমার্জন এনেছিল। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ২০২৮ সাল থেকে সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান, তার বাবা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। ওসমান হাদি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং সর্বশেষ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে তার অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা ছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে টকশো ও বিভিন্ন জনসভায় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দ্রুত দেশজুড়ে তরুণদের মাঝে দ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে নির্বাচনি প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর এই তরুণ নেতা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার এই হত্যাকাণ্ড সে সময় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পাঠ্যক্রমে তার এই আত্মত্যাগের অন্তর্ভুক্তিকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে দেখছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।